1. [email protected] : দেশ রিপোর্ট : দেশ রিপোর্ট
  2. [email protected] : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক
  3. [email protected] : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক
  4. [email protected] : অনলাইন : Renex অনলাইন
শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ১২:১৭ অপরাহ্ন

সড়ক পরিবহন আইন: চাপের মুখে সংশোধন করছে সরকার

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১

পরিবহন সংগঠনগুলোর চাপের মুখে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমান আইনের ১১টি ধারায় বিদ্যমান শাস্তির পরিমাণ কমিয়ে এবং চারটি ধারার কারাদণ্ডের বিধান কমিয়ে আইনটি সংশোধন হতে যাচ্ছে।

আইনের সুপারিশকৃত খসড়া অনুযায়ী- ওভারলোডিং এবং মোটরযানের আকার পরিবর্তনের অপরাধকে জামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যা বর্তমানে অজামিনযোগ্য।

খসড়া অনুযায়ী আইনটি সংশোধিত হলে- নিয়ন্ত্রণহীন এবং চালকের অবহেলার কারণে দুর্ঘটনায় কেউ আহত হলে চালককে দায়ী করে বিচার করা যাবে না। তবে, কেউ দুর্ঘটনায় মারা গেলে তখন শুধু এটি প্রয়োগ করা যাবে।

খসড়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির পরিবর্তে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই একজন চালক নিবন্ধনকৃত থ্রি-হুইলার বা তিন চাকার গাড়ি চালাতে পারবেন। অন্য পরিবহনগুলো চালানোর জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা অপরিবর্তিত থাকবে।

তবে, একজন সহকারী বা সুপারভাইজারের ১০ বছরের গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা থাকলে এবং ড্রাইভিং সক্ষমতা বোর্ডে পাশ করলে তার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ কয়েকটি শর্ত মানা প্রয়োজন হবে না বলে খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বিদ্যমান আইনের ১২৬টি ধারার মধ্যে কমপক্ষে ২৯টি ধারা সংশোধন করা হবে। ভারি ও মাঝারি মোটরযানের সংজ্ঞাসহ আটটি বিষয়ের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হবে।

জনগণের মতামতের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় খসড়াটি প্রস্তুত করে তাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করেছে। খসড়ার বিষয়ে মতামতের জন্য সংশ্লিষ্ট ১৫ থেকে ১৬টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইউসুফ আলী মোল্লা বলেন, ‘তাদের মতামত পেলে প্রয়োজনে আমরা সেগুলো যোগ করব।’

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় ও সংসদে এর অনুমোদনের আগে আরও কয়েকটি ধাপ আছে।’

এ বিষয়ে নিরাপদ সড়ক চাই (নিচসা) আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এটি (প্রস্তাবিত খসড়া) তাদের (পরিবহন নেতাদের) চাহিদার প্রতিফলন।’

‘এ আইনের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন শুরুর আগেই আইনটি পরিবর্তন করা হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক,’ বলেন তিনি।

খসড়া অনুযায়ী আইনটি সংশোধিত হলে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্যের নেতৃত্বাধীন পরিবহন সংগঠনকে অত্যন্ত ক্ষমতাবান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরিবহনখাতে অরাজকতার জন্য মূলত যারা দায়ী, তাদের দাবির ভিত্তিতেই সরকার আইনটি সংশোধন করতে যাচ্ছে।’

তবে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী তাদের চাপের ফলে সরকারের আইন পরিবর্তনের অভিযোগ অস্বীকার করছেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সরকার তড়িঘড়ি আইনটি পাশ করে। যদি আরও আলোচনা করে আইনটি পাশ করা হতো তাহলে এতো দ্রুত আইনটি সংশোধন করার প্রয়োজন হতো না।’

তিনি জানান, আইনটির ৩৪টি ধারা পরিবর্তনের জন্য তারা সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং এগুলো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণে প্রতি বছর কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু এবং অঙ্গহানির পরিপ্রেক্ষিতে গত তিন বছরে নিরাপদ সড়ক বিষয়ে দেশে দুটি বড় আন্দোলন হয়েছে। আইনটি পাশের সময় সরকার বলেছিল, আইনটি বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

যে পরিপ্রেক্ষিতে আইনের সংশোধন হচ্ছে

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন আইনটি পাশ হয়। কিন্তু, ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সরকার এটি কার্যকর করেনি।

আইনটি পাশ হওয়ার পর পরেই এটি পরিবর্তনের দাবিতে পরিবহন শ্রমিকরা দুই দফায় ধর্মঘট ডাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনটি কীভাবে প্রয়োগ করা যায় এ বিষয়ে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সরকার আইনটি প্রয়োগের ব্যবস্থা নিলে পরিবহন সংগঠনগুলো আইনটির বিভিন্ন ধারা পরিবর্তনের জন্য আবারও ধর্মঘট ডাকে।

তাদের মূল দাবিগুলো ছিল- আইনটির অধীনে সব অপরাধ জামিনযোগ্য করতে হবে এবং বিভিন্ন ধারায় যে জরিমানার কথা বলা হয়েছে তা কমাতে হবে।

সরকার তখন আইনটির কিছু ধারা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নেন।

যেমন, গত বছরের জুন পর্যন্ত হালকা ও মাঝারি গাড়ি চালানোর লাইসেন্সধারীদের মধ্যে যারা ভারি মোটরযান চালান তাদের শাস্তি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পরবর্তীতে তা আরও এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়।

এই সময়ের মধ্যে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্যরা পরিবহন নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফায় আলোচনা করেন। তারা আইনের কিছু পরিবর্তনের বিষয়ে পরামর্শও দেন।

ইউসুফ আলী মোল্লা বলেন, ‘তিন মন্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মতামত ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কিছু প্রস্তাবনাকে ধরে খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।’

কী আছে খসড়া সংশোধনীতে

আইনটির ১০৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কেউ যদি মোটরযান দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন বা মারা যান, তাহলে তা ১৮৬০ সালের পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী অপরাধ বলে বিবেচনা করা হবে।

পেনাল কোডের ৩০৪/বি ধারায় যাই বলা থাকুক না কেন কারও নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ি চালানোর ফলে বা অবহেলাজনিত কারণে কেউ যদি দুর্ঘটনার শিকার হন এবং এতে যদি কেউ মারা যান বা মারাত্মকভাবে আহত হন তাহলে তাদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড কিংবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় শাস্তি হবে।

কিন্তু, খসড়ায় ‘মারাত্মকভাবে আহত’ বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং জরিমানা তিন লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে, পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিষয়টি রাখা হয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীকে জরিমানার টাকা সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিশোধের জন্য আদালত আদেশ দিতে পারবেন।

বর্তমানে আইনের ৮৪, ৯৮ ও ১০৫ ধারা অজামিনযোগ্য অপরাধ। কিন্তু আইনটি সংশোধন হলে ৮৪ ও ৯৮ ধারা জামিনযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।

৮৪ নম্বর ধারায় অবৈধভাবে মোটরযানের আকৃতি পরিবর্তনে শাস্তির কথা বলা হয়েছে। ৯৮ নম্বর ধারায় ওভারলোডিং বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গাড়ি চালানোর শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উপরন্তু, খসড়া অনুযায়ী ৯৮ ধারাকে আপোষযোগ্য বলা হয়েছে।

অবৈধ ও অবৈজ্ঞানিকভাবে গাড়ির আকার পরিবর্তন এবং ওভারলোডিংকে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে বিবেচনা করা হয় এবং এ অপরাধ যাচাইয়ের এখতিয়ার ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেই। ওভারলোডিং সড়ক ও সেতুর ক্ষতির অন্যতম কারণ।

খসড়া অনুযায়ী, ১১টি ধারার নির্ধারিত জরিমানা এবং চারটি ধারার কারাদণ্ডের শাস্তি কমানো হবে।

যেমন- বিদ্যমান আইন অনুযায়ী অনির্ধারিত জায়গায় গাড়ি পার্ক করলে বা যাত্রী ওঠানামা করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। কিন্তু, খসড়া অনুযায়ী এ অপরাধের জন্য মাত্র এক হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।

৫৭ ধারায় ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ দিতে আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠনের বিষয়ে বলা হয়েছে।

বর্তমান আইন অনুযায়ী- ওই তহবিলের উৎস হিসেবে নিয়ন্ত্রণহীন চালক ও মোটরযান মালিকের কাছ থেকে আদায় করা জরিমানার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু, সংশোধিত খসড়ায় এ বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে, কর্তৃপক্ষকে সরকারি তহবিল বা পরিবহন সংগঠনগুলোর দেওয়া চাঁদার ওপরেই নির্ভর করতে হবে।

২৫(২) ধারা অনুযায়ী- ফিটনেসের অনুপযোগী কোনো মোটরযানের ফিটনেস সনদ দেওয়ার সঙ্গে কোনো কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু, খসড়ায় এটি বাদ দিয়ে বলা হয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ মোটরযানকে কোনোভাবেই ফিটনেস সনদ দেওয়া যাবে না।

শেয়ার:
আরও পড়ুন...
স্বত্ব © ২০২৩ দৈনিক দেশবানী
ডিজাইন ও উন্নয়নে - রেনেক্স ল্যাব