1. [email protected] : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক
  2. [email protected] : Md. Murad Hossain : Md. Murad Hossain
  3. [email protected] : অনলাইন : Renex অনলাইন
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:৫১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবর

শহীদ মিনার ও বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে বসছে হাট পবিত্রতা হারাচ্ছে শহীদ মিনার

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নরসিংদী প্রতিনিধি: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বসছে বিশাল হাট। দোকান পেতে বসেছে শহীদ মিনারের বেদীতেও। জুতা পায়ে নিয়ে সাধারণ ক্রেতাও যাচ্ছেন শহীদ মিনারের বেদীতে। আশে পাশে রয়েছে দীর্ঘ দিনের ফেলা ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। সেই ময়লা আবর্জনা থেকে বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে সেখানে যেমন মশা, মাছির উপদ্রবও বাড়ছে। দূষিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ। বাজারে আসা পথচারীরা দুর্গন্ধে নাকে টিস্যু চেপে বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।
এমন একটি দৃশ্য দেখা গেছে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার হাসনাবাদ বাজারস্থ্য হাসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
আগামী ১২ তারিখে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশ দিয়েছেন সরকার। এমন পরিস্থিতিতে অত্র প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে কি না তা নিয়ে শংকিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকমহল।
গত শুক্রবার এবং শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই স্কুলের মাঠে শুক্রবার বসেছে বিশাল হাট। দোকান বসেছে শহীদ মিনারের বেদীতেও। জুতা পায়ে নিয়ে সাধারণ ক্রেতাও যাচ্ছেন শহীদ মিনারের বেদীতে। আসে পাশে রয়েছে দীর্ঘ দিনের ফেলা ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। সেই ময়লা আবর্জনা থেকে বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে সেখানে যেমন মশা, মাছির উপদ্রবও বাড়ছে। দূষিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ। বাজারে আসা পথচারীরা দুর্গন্ধে নাকে টিস্যু চেপে বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাতায়াত করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের ভেতরে থাকা এই স্কুলের মাঠে দীর্ঘ দিন ধরে বাজার বসছে। ফেলা হচ্ছে বাজারের ময়লা আবর্জনা।

প্রাক্তন ছাত্র অর্পন বলেন, শহীদ মিনার ও মাঠ বেদখল মোটেও কাম্য নয়। মাঠে ছাত্র ছাত্রীরা খেলবে এটাই স্বাভাবিক। শহীদ মিনারের বেদীতে জুতা নিয়ে চলাফেরা এটা খুবই দুঃখজনক।

স্থানীয় সচেতন মহল জানান, ‘নিয়মানুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাট বসার কথা না। তবুও বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করেই হাট বসানো হচ্ছে। শহীদ মিনার আমাদের ইতিহাসের অংশ। এই শহীদ মিনারের পবিত্রতাও রক্ষা করা হচ্ছে না। আর এখন বিদ্যালয়ের সার্বিক যে পরিস্থিতি তা কোনো ভাবে শিক্ষা কার্যক্রমের উপযোগী নয়’

হাসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আজিজুল হক বলেন, স্কুলের মাঠের সঙ্গে হাট আলাদা করতে প্রচীর নির্মাণ করতে গেলেও বাঁধা দেওয়া হয়। এখানে হাট বসানোর কারণে ময়লা আবর্জনা জমে। এতে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। হাট ও ময়লা-আবর্জনা দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনে সহযোগীতা প্রয়োজন’।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এমদাদুল হক খান মিঠু বলেন, ‘স্কুল বন্ধ থাকায় ওই দিকে যাওয়া হয় নি। ইজারাদার কে ফোন করে বলে দিচ্ছি ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করতে এবং হাট সরিয়ে নেওয়ার জন্য। মাঠ থেকে হাঁট সরিয়ে না নিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে আইনি পদক্ষেপ নেবো।’

হাসনাবাদ বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার জানা মতে প্রাচীর নির্মাণে কোনো প্রকার বাঁধা দেওয়া হয়নি। তবে রাস্তাটি সরু। মানুষের যাতায়াতের ব্যবস্থা রেখে প্রাচীর নির্মাণ হলে কোনো সমস্যা নেই।’

হাসনাবাদ হাটের ইজারাদার মুস্তফা মেম্বার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ। তাই হাটের ময়লা পরিস্কার করা হয়নি। আগে হাট শুক্রবার বসলেও সুইপার দিয়ে শনিবারে পরিস্কার করা হতো। বাজারের জায়গা কম। তাই শুক্রবার হাট বসানো হয়। ময়লা আবর্জনা দু-এক দিনের মধ্যে পরিস্কার করা হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ বলেন, এ বিষয়ে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, কিন্তু বাজার পরিচালনা কমিটির লোকজনের সহযোগিতা না পাওয়ায় সমাধান হয়নি। সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান মারা যান। ইউএনও স্যারের সাথে পরামর্শ করে বর্তমানে যিনি দায়িত্বে আছেন তাকে নিয়ে সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করার চেষ্ঠা করবো।

এই ব‍্যাপারে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আজগর হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে শিক্ষা অফিসার ও প্রধান শিক্ষকের সাথে বসে বিদ্যালয় খোলার পূর্বেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শেয়ার:
আরও পড়ুন...
স্বত্ব © ২০২৩ দৈনিক দেশবানী
Theme Customized BY LatestNews