1. [email protected] : দেশ রিপোর্ট : দেশ রিপোর্ট
  2. [email protected] : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক
  3. [email protected] : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক
  4. [email protected] : অনলাইন : Renex অনলাইন
রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২০ অপরাহ্ন

মোদির অপেক্ষায় বাংলাদেশের মতুয়ারা, দিন গুনছে ওড়াকান্দি

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • শনিবার, ১৩ মার্চ, ২০২১

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা আসছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ মার্চ দিল্লি থেকে ঢাকা এসে পৌঁছাবেন তিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে তার এই সফর।

ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এই সফরে তিনি যেতে পারেন মতুয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র তীর্থস্থান গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দি ও সাতক্ষীরার যশোরেশ্বরী মন্দির। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বরাত দিয়ে ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ মার্চ নরেন্দ্র মোদি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাবেন। সেদিনই তার দুই জেলায় দুই মন্দিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি প্রথমে যাবেন সাতক্ষীরা যশোরেশ্বরী মন্দিরে। এটা অনেক পুরোনো মন্দির প্রতাপাদিত্য কিংবা লক্ষণ সেনের সময়ের মন্দির। সাতক্ষীরা থেকে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে যাবেন মোদি, সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানাবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী মোদি গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দিতে যাবেন। সেখান থেকে সেদিনই ঢাকায় এসে তিনি দেশে ফিরে যাবেন।

এতো কম সময়ে বাংলাদেশ সফরে এসে রাজধানী ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত এলাকায় মন্দির দর্শন কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে? সাতক্ষীরার যশোরেশ্বরী কালী মন্দির সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত। আর মতুয়া মতবাদের প্রবক্তা হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মস্থান হলো গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার ওড়াকান্দি। ওই গ্রামের মন্দিরটি মতুয়া সম্প্রদায়ের কাছে পরিচিত সর্বোচ্চ মর্যাদার তীর্থস্থান হিসেবে।

ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রী এর আগে কখনো বাংলাদেশ সফরে গিয়ে ওড়াকান্দি যাননি। ফলে নরেন্দ্র মোদি যদি সত্যিই সেখানে যান, তা হলে মতুয়াদের কাছে তিনি ইতিবাচক একটি বার্তা পৌঁছে দিতে পারবেন। যা বঙ্গভোটের আগে তাৎপর্য পূর্ণ। এমনটাই জানা গেছে ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গজুড়ে প্রায় দেড় কোটি মতুয়ার বাস। রাজ্যটির ৬৫ থেকে ৭০টি আসনে মতুয়া ভোট জয়-পরাজয়ের নিষ্পত্তি করে দেয় বলে ধারণা করা হয়। সেই জায়গায় পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির ওড়াকান্দি যাওয়াটা বিজেপির জন্য রাজনৈতিক সুফল বয়ে আনতে পারে।

এদিকে, নরেন্দ্র মোদি যে দিন ওড়াকান্দি সফর করার পরিকল্পনা করছেন (২৭ মার্চ) সে দিনই পশ্চিমবঙ্গে আট পর্বের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে। ভোট চলবে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত। নরেন্দ্র মোদি যদি শেষ পর্যন্ত সত্যিই ওড়াকান্দি যান, তবে সেখানে তার সফরসঙ্গী হতে পারেন হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুর বংশের উত্তরাধিকারী ও মতুয়া নেতা তথা বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর।

বাংলাদেশের মতুয়া মহা মিশনের সংঘাতিপতি ও মতুয়াচার্য পদ্মনাভ ঠাকুর জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদির সফর সামনে রেখে দেশটির ভারতীয় হাই কমিশনের কর্মকর্তারা এরই মধ্যে ওড়াকান্দি ঘুরে গেছেন। পদ্মনাভ ঠাকুর আরো বলেছেন, আমরা জানতে পেরেছি, নরেন্দ্র মোদি আসার পর নাটমন্দিরে ঠাকুর পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলবেন। এরপর হরিমন্দিরে পূজা দেবেনে। এসব কর্মসূচি শেষে তিনি মতুয়া প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলতে পারেন।

ভারত-বাংলাদেশ মিলিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীর সংখ্যা পাঁচ কোটির বেশি। এর মধ্যে প্রায় তিন কোটির বসবাস পশ্চিমবঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন সরকারের আমলে মতুয়াদের কাছে টানার পদক্ষেপ চলেছে জানিয়ে মতুয়াচার্য পদ্মনাভ ঠাকুর বলেন, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনিও মতুয়াদের কাছে টানার জন্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। আমাদের জন্য কিছু করেছেন। তারপর তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা ব্যানার্জি ক্ষমতায় এসে ঠাকুর নগরের ঠাকুর বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। কিছু উন্নয়ন করেছেন। মতুয়া ধর্মের প্রবর্তক হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিনকে তিনি সরকারি ছুটির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

নরেন্দ্র মোদির আগমনে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি নিজেদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার কথাও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতে চাইছেন ওড়াকান্দির মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। মতুয়াচার্য পদ্মনাভ বলেন, ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জম্ম দিনে সরকারি ছুটি রয়েছে। তাই অবতার হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্ম দিনে বাংলাদেশে ঐচ্ছিক ছুটি প্রচলন করেছে সরকার। আমরা দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণার প্রধান দাবি জানাচ্ছি।’

মতুয়া অনুসারী সঞ্জয় বলেন, ‘বাংলাদেশে বিশ্ব এজতেমার পরে শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে সব থেকে বেশি জনসমাগম হয়ে থাকে। সে কারণে ওড়াকান্দিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা ও মর্যাদার আসনে বসানোর দাবি মতুয়াদের রয়েছে। নরেন্দ্র মোদির আগমনের মধ্যে দিয়ে এটি আরো প্রসারিত হবে।

কাশিয়ানী উপজেলা চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর হিল্টু বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে মতুয়াদের মধ্যে নব জাগরণের সৃষ্টি হয়েছে। এতে মতুয়াদের এগিয়ে চলা আরো গতিশীল হবে।

ওড়াকান্দির হরি মন্দিরের সেবাইত হরি গোসাই আবার বলেন, ২৭ মার্চ মোদি আসছেন। তিনি এখানে পূজা দেবেন। আমি তাকে পুজোয় সহযোগিতা করব। এখানে পূজা দিলে হরিচাঁদ ঠাকুর মোদির মনোস্কামনা পূর্ণ করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। তখন সকল মতুয়া ভক্ত ও বিশ্বের কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।

সূত্র: আজ তক।

শেয়ার:
আরও পড়ুন...
স্বত্ব © ২০২৩ দৈনিক দেশবানী
ডিজাইন ও উন্নয়নে - রেনেক্স ল্যাব